ডেভিড হার্স্টের কলাম/ইসরায়েলের পরবর্তী লক্ষ্য কি তুরস্ক, মধ্যপ্রাচ্য এবার কী করবে

লেখক:
প্রকাশ: ১ সপ্তাহ আগে

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে মার্কিন প্রশাসন দুটি পরস্পরবিরোধী চুক্তি সই করেছে। ইরানের ওপর শান্তির শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার যে ক্ষমতা ইসরায়েল হারিয়েছে, তারা এখন সেটি লেবাননের মাধ্যমে ফিরে পেতে চাইছে।

 

এ ক্ষেত্রে লেবানন সরকার ইসরায়েলকে বড় ধরনের সহায়তা করেছে। তারা নিজেদের ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের করা যুদ্ধাপরাধের বিচার চাওয়ার আইনি অধিকারও তারা ছেড়ে দিয়েছে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে। এই চুক্তিতে ওয়াশিংটন ইরান ও লেবাননের মধ্যে একটি স্পষ্ট যোগসূত্র মেনে নিয়েছে। তারা লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

 

যদি এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়, তবে গত শুক্রবার ওয়াশিংটনে সই হওয়া দ্বিতীয় চুক্তিটি গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে। লেবানন, ইসরায়েল ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে ওই চুক্তিটি সই হয়েছিল। এই ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ বা রূপরেখা চুক্তি অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের বিশাল এলাকা দখল করে রাখা ইসরায়েলি বাহিনীকে সেখানে অনির্দিষ্টকাল থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

 

প্রথম চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালিও অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু দ্বিতীয় চুক্তিতে মিত্র ইসরায়েলের ওপর লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষার কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। ওয়াশিংটন থেকে পরিচালিত একটি ‘সামরিক সমন্বয় গোষ্ঠী’ লেবাননের এই সার্বভৌমত্বকে আরও দুর্বল করেছে।

 

ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের ভেটোর কারণে লেবাননের সেনাবাহিনী অস্ত্রের দিক থেকে সব সময়ই দুর্বল। এই চুক্তি সেই দুর্বল সেনাবাহিনীকেই একটি যুদ্ধ-অভিজ্ঞ সশস্ত্র গোষ্ঠীকে (হিজবুল্লাহ) নিরস্ত্র করার নির্দেশ দিচ্ছে। অথচ অনেক লেবাননি মনে করেন, ইসরায়েলি হামলা ও বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহই একমাত্র কার্যকর রক্ষাকবচ।

 

এই রূপরেখা চুক্তি অনুযায়ী, লেবানন সরকার ইসরায়েলি সেনা ও জেনারেলদের করা যুদ্ধাপরাধের দায়মুক্তি দেবে। আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুক্তির ১৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী লেবানন আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার হারিয়েছে

Daily Business Finance