

ডেইলি বিজনেস ফাইন্যান্স ডেস্ক | প্রকাশের তারিখ: ০৮ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা (FIFA) আবারও প্রশাসনিক বিতর্কের কেন্দ্রে। দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সংস্থার আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে ফিফা। সংস্থাটির নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
ফিফা জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নষ্ট করা এবং অভ্যন্তরীণ নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা ফিফার কোনো দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না এবং সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রম থেকেও তাদের বিরত রাখা হবে।
ফুটবল প্রশাসনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, বিশ্ব ফুটবলের সুনাম রক্ষা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংস্থাটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন,
“ফুটবলকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, ফিফার এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে সংস্থাটি অতীতের বিতর্ক থেকে বেরিয়ে এসে নতুন করে নিজেদের ভাবমূর্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
ফিফার অতীত এবং দুর্নীতির ইতিহাস
গত এক দশকে ফিফা একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ঘুষ, অর্থ আত্মসাৎ, ভোট কেনাবেচা এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে বহু কর্মকর্তা তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক এই বরখাস্তের ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার ভেতরে প্রশাসনিক সংস্কার এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশ্ব ফুটবলে কী প্রভাব পড়বে?
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের ধারণা, এই ঘটনার ফলে ফিফার অভ্যন্তরীণ প্রশাসনে আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশনগুলোর ওপরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চাপ বাড়বে।
বিশ্ব ফুটবলের বিভিন্ন অংশীদার, স্পন্সর এবং সমর্থকরাও বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কারণ ফিফার যেকোনো প্রশাসনিক সংকট সরাসরি আন্তর্জাতিক ফুটবলের ভাবমূর্তি ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিচয় গোপন
ফিফা জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মকর্তার নাম এবং অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না। তদন্ত সম্পন্ন হলে আনুষ্ঠানিকভাবে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।
